Header Ads

ঘাটাইলে পরিত্যক্ত স্ত্রীর সাথে দেখা করার অপরাধে অমানবিক নির্যাতন

ঘাটাইলে পরিত্যক্ত স্ত্রীর সাথে দেখা করার অপরাধে অমানবিক নির্যাতন

সদ্য পরিত্যক্ত স্ত্রীর সাথে সাথে দেখার করার অপরাধে রাজা মিয়া নামের এক যুবকের উপর মধ্যযুগী কায়দায় অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবককে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পা ও হাতের আঙুল ভেঙ্গে ফেলা,গায়ের চামড়া কেটে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়া,সাড়াশি দিয়ে দাঁত উপড়ে ফেলা ও সিগারেটের আগুনে ছেঁকাও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেলের রড পুরুষাঙ্গে ঢুকিয়ে মুচরানো এবং পায়খানার রাস্তায় পাইপ ঢুকিয়ে কয়েক ঘন্টা ব্যাপী নির্যাতন চালিয়েছে নূর-নবী (৫০),নজরুল ইসলাম (৪৫),নাজিম (৪০),মূছা (১৮) ও বাছিরণ নামের কয়েকজন নরপশু।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঐ যুবককে পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন পরিবারের লোকজন। নির্যাতিত যুবক এখন টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শালিয়াবহ (নয়াপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে রাজা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছেন।

সরেজমিনে নির্যাতিত যুবকের পরিবার সূত্রে জানা,শালিয়াবহ (গাবতলী) গ্রামের আ.বাছেদের মেয়ে বাছিরণ স্বামী ও দুই সন্তান ফেলে অর্থ সম্পদের লোভে শালিয়াবহ (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে মো.রাজা মিয়াকে (৩২) কৌশলে ২ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে করেন। রাজা মিয়ার প্রথম স্ত্রী থাকায় বাছিরণ রাজা মিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। ৫-৬ মাস পূর্বে কথিত মাতাব্বরদের যোগসাজশে খোলা তালাকের নাম করে বাছিরণের মামা নজরুল ইসলাম সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
রাজা মিয়ার বড় ভাই মো.আন্তাজ আলী জানান,বাছিরণ যখন আমার ভাইকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে তখন ভাইয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জমি বিক্রি করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়ে খোলা তালাক করিয়েছি। কিন্তু প্রভাবশালী কয়েকজন মাতাব্বরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে বাছিরণের মামারা রাজাকে কৌশলে বাড়ি থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে ঘরে আটকিয়ে রেখে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান,ভাগ্নি বাছিরণকে পুঁজি করে নির্যাতনকারিরা একাধিক পুরুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা জানান রাজাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্রবরতাকেও হার মানিয়েছে।
রাজার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম জানান,আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জানান, আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

স্থানীয় ইউ.পি সদস্য মো.আবুল হাশেম জানান,আসামীরা রাজার উপর অমানবিক নির্যাতন করেছে।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান,প্রথমে স্বামী সন্তান থাকা স্বত্বেও রাজা আমার ভাগ্নিকে ফুসলিয়ে বিয়ে করে এবং ডিভোর্স হওয়ার পরও সে বাছিরণকে বিরক্ত করত। ঘটনার রাতে আমার ভাগ্নির ঘরে ঢুকলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় বিক্ষোব্দ জনতা রাজাকে মারপিট করেছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ধলাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এস.আই আমিরুল ইসলাম জানান,এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেব।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.